ভিতর-বাহির

307709_123587707753042_100003054404182_120100_1084555183_n 

হৃদয়ের গ্রন্থিভেদ করে বেড়ে ওঠা আগাছাগুলোকে…

 

                

                 পুরো লেখার পরিসর জুড়েই রয়েছে আমার একান্ত নিজস্ব দৃষ্টি। সেই সাথে আমার মনোবৈকল্যের চূড়ান্ত ছাপ। পরিহাস করার মানসিকতায় নয়, বরং এই ইট-পাথরের জঙ্গলে বেড়ে ওঠা আমার তেইশ বছরের বিকৃত মস্তিস্ককে কলমের ডগায় নিয়ে আসার প্রয়াস মাত্র। আমার এঘর- ওঘর, ভেতর- বাহির আর পাচিলের ফাটলে হঠাৎ মাথাচাড়া দেয়া সম্পর্কগুলোর এফোঁড়–ওফোঁড় তলিয়ে দেখার ইচ্ছা থেকেই মূলত এই লেখার জন্ম। লেখায় দূরবীন ব্যবহার না করে নিজের তেইশ বছরের চোখ জোড়াকেই বপন করার ক্ষীণ চেষ্টা চালানো হয়েছে

 

আমার জানালায় যখন গুটি গুটি পায়ে অন্ধকার হাঁটে তখন তার কোমল নিটোল হাতে আলতো হাত রেখে আমার কেবল একটি প্রশ্নই জানতে ইচ্ছে করে, “আমি এবং আমরা কেমন আছি?” নিজের প্রশ্নে নিজেই অবাক হই। আমার এই অতি ব্যক্তিগত কথাও যে আর কারো কাছ থেকে জানতে হচ্ছে, তা ভেবে নিজেকে কিছুটা গালমন্দ করে আবার সেই পুরোনো আমিতেই নিবৃত্ত হই। আমি তার কাছে নির্বানের উপায় জানতে চাই। “নির্বানের আঠারো উপায়” নামে কোন বিশেষ পুস্তকের ব্যবস্থা কী করে করা যায়, তা জানতে চাই। ‘নির্বান’ এর একটি অর্থ হলঃ নিভে যাওয়া। এদিক থেকে আমার ঘরের অন্ধকার আর বাইরের অন্ধকারের মাখামাখিতে নির্বান লাভ কতটুকু হয়, আমি জানিনা। আমি অন্ধকার দেখতে থাকি। মনে মনে আওড়াই, “ নির্বান দীর্ঘজীবী হোক!” আমি আমাকে নিয়ে বেশ ভাল আছি।

আচ্ছা, আমাদের এই ‘থাকাটা’ একক না সামষ্টিক? এ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। হয়ত আমি ভালই আছি। হ্যাঁ আমি ভালই আছি। কিছু প্রাকৃতিক আর কিছু অ-প্রাকৃতিক নিয়ামকের উপর নির্ভর করে আছে আমাদের এই ‘থাকাটা।’ এই ‘থাকার’ মধ্যেও আবার কিছু স্বার্থ, অ-স্বার্থের যোগ আছে। এই তুমি, যখন আমাকে নিরঙ্কুশ সুবিধার যোগান দিচ্ছো, আমি কিন্তু বেশ ‘থাকছি।’ আবার যখনই তোমার সরবরাহে জট হচ্ছে, অমনি আমি মুখ ঘুরিয়ে তোমার শনির বাক্স উলটিয়ে দিচ্ছি। হ্যাঁ, আমি ভালো আছি। সামষ্টিকভাবে ভালো থাকাটা হয়ত সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু এককভাবে আমি ভালোই আছি। “To live is the best art”.

খুব কিছু পরিচিত ঘ্রাণের পিছু করতে করতে আমার যাত্রা এসে ঠেকে তোমার ঘরের রেলিং টানা বারান্দায়। তোমার জানালার পর্দায় যখন হাজার রকম লাল-নীল স্বপ্ন ঝলমল করে তা দেখে আমারও হয়ত কিছুটা স্বপ্নচাষী হতে ইচ্ছে করে; (কল্পনায় তোমাকে নিয়ে আমি জাফলং দেখতে যাই)। আবার সেই তোমাকেই যখন দেখছি পাশের বাড়ির গিটারধারী ছেলেটার অনিয়ন্ত্রিত ক্যাকাফনিতে সুর মেলাতে তখনই বিগড়ে যাচ্ছে আমার সমস্ত শিরা-উপশিরা।

তোমার আমার মাঝের মিল-অমিল আর গরমিলের হিশেব কষতে কষতে আমরা দুজনই কেমন যেন হয়ে গেলাম, তাইনা? হিশেব নিকেষে আমি কোনদিনই যুতসই ছিলাম না। হিশেবের নামে বে হিশেবের অঙ্কই বেশি কষেছি। সেদিক থেকে তুমি হিশেব-নিকেষে বরাবরই তারকা সম্বলিত।

ব্যাপারটা এমন নয় যে, আজ আমার আত্নদর্শন তুঙ্গে উঠেছে। আমার শুধু জানতে ইচ্ছে করে, কেমন করে তোমার আমার ভালোবাসায় কোন ফাঁক-ফোকর গলিয়ে এলোপাতারিভাবে বাণিজ্যও স্থান করে নিল? সম্পর্কের মাঝে চলে এলো নয়টা- পাঁচটার ক্লান্তি। কেমন যেন শর্তাধিন হয়ে পড়লাম আমি-তুমি আর আমরা। এমনটা কী হওয়ার কথা ছিল,তুমিই বলো?

বিশ্ব-বাণিজ্য আর তার কারবারিওয়ালাদের সাথে আমার খুব একটা মহব্বত কোন কালেই ছিলনা। কিন্তু দ্রব্যের দরপতন আর উর্ধ্বগতির সাথে সঙ্গতি রেখে বদলাতে হচ্ছে আমাদের চারপাশ, পরিবেশ আর প্রতিবেশ। বাদ পড়ছেনা আমাদের মানবীয় দিকগুলোও আর বিক্রি না হতে পারা অনুভূতিগুলোও। বাজারি মানুষগুলো আজ চরম আক্রোশে বিক্রি করতে চাইছে তার সব কিছু, যা কিছু টাকা-পয়সা আর ডলারের অধরা তাও। যে বিনিময় প্রথার সাথে দীর্ঘকালের পরিচয়, চলাফেরা, সেই বিনিময়েও ধরা পরছে বাটখারার কারচুপি। আর তা থেকে রেহাই পেলামনা আমরাও, আমি-তুমি আর আমরা। যখন আর বিনিময়ের সাথে তাল মেলাতে পারলাম না, আশ্রয় নিয়েছি জুয়া-পাশার। কখনো নিজেকে বাজি রেখেছি একটা সুন্দর স্বপ্নের জন্য, কখনোও বা শুধু একটু মুক্ত বাতাসের জন্য। জুয়ায় আমি ঈশ্বরকেও পরাস্ত করতে পেরছি। তবুও কেন জানিনা তোমার কাছে আমার হুকুমের টেক্কাও হল ধরাশায়ী। আমাদের মন ধারাপাতের পাতাগুলো যে দিন দিন কাটাকুটিতে ভরে উঠছে তা কী লক্ষ্য করেছ?

প্রিয়তমা আমার, দেখবে আর এই তো ক’দিন পরেই ঠিক হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। সেই পুরোনো খেলনায়ালা তার বিষ্ময়ের বাক্স নয়ে হাক দেবে আমাদের অলিতে-গলিতে। মুহূর্মুহূ ধর্ষিতা হবেনা আমাদের চিন্তাগুলো। আমাদের অ-ব্যক্ত চাওয়াগুলোকে আর ডাস্টবিনে ফেলতে হবেনা। আমার চিন্তার রাজ্যে তুমি কতবার আসতে পারবে তা নিয়ে জাতিসংঘ আর মাথা ঘামাবে না। আমার মেয়েটা তোমার গর্ভেই পাবে একটি সুন্দর জীবনের বার্তা। তাকে এ পৃথিবীতে নিয়ে আসতে আর কোন বাধা থাকবে না। আমার মেয়েটা বেড়ে উঠবে সব কার্পন্যের উর্ধ্বে উঠে। নিশ্চিত হবে শৈশব, উদ্যম খোলা মাঠে সে দেখবে হাজার রঙ বদলের খেলা। কৈশোরেই বে-ঘর করা নিয়ে তোমাকে মাথা খাটাতে হবে না। পৃথিবীতে এমন জায়গাও নিশ্চয়ই হবে যেখানে কেউ তোমার আমার নাম জানতে চাইবেনা। সম্পর্কের দলিল দেখতে চাইবেনা।

প্রিয়তমা, আর বেশিদিন নয়, একটু ধৈর্য্য রাখো।

চারপাশটা যে বড্ড বায়বীয় হয়ে পড়ছে , তা কী তুমি লক্ষ্য করেছো? বাদ পড়ছেনা কিছুই। বস্তুজগত বলে আর বেশি কিছু বাকী রইল না। সম্পর্কগুলো তো কবেই বায়বীয় হয়ে গেছে। আর এখন সেই সম্পর্কধারী মানুষগুলোও। বাদ পড়নি তুমিও প্রিয়তমা। শব্দের মায়াজাল আর ভালোবাসার নগ্নতায় ব্রক্ষ্মা চিরদিনই তোমার কাছে পরাস্ত। এত বায়বীয়তার মাঝেও যেন শ্বাস নেয়ার বাতাসটুকুও আজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

বস্তুগত বিপ্লবের প্ল্যাকার্ড হাতে তুমি আমাকে মিছিলে দেখেছো আনেকপবার। কতবার আমি আর আমরা যে রাজপথ দখল করেছি, তা তো তোমার অজানা নয়। অথচ, আজ যখন আমরা আমাদের অস্তিত্বকেই হারিয়ে ফেলতে চলেছি, তা নিয়ে কোন বিপ্লব হচ্ছেনা। কেন হচ্ছেনা, জানো? কারণ, আমরা আমদের যা নিয়ে বিপ্লবের জন্য মাঠে নামবো তা-ই বায়বীয় হয়ে উবে গেছে। হুড়মুড় করে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো তাই চুড়চুড় করে ভেঙে পড়তে সময় নিচ্ছেনা একটুও। যেগুলো টিকে যাচ্ছে, তাতেও ভর করছে নয়টা-পাঁচটার ক্লান্তি।

প্রিয়তমা, তুমি নিশ্চয়ই ভেবে নিয়েছো, কথাগুলো আমি তোমাকে বলছি। কিন্তু না, কথাগুলো যেমন আমার নয়, তেমনি কথাগুলো তোমাকেও নয়। কথাগুলো সময়ের। কথাগুলো ৭০০ কোটি মানুষকে বলছি।

তুমি নিশ্চয়ই জানো, প্রাচীন কম্যুনিজমে ব্যক্তিগত বলে কোন শব্দই নেই। এমনকি স্ত্রী ভাগাভাগির নজিরও আছে। তোমার কী মনে হয়, এখন এই সময়েও আমরা এই নোংরা প্রথা থেকে দূরে আছি? এখন হয়ত আমরা স্ত্রী ভাগাভাগি করছিনা ঠিকই, কিন্তু কল্পনায় প্রতিদিন আমি যে ধর্ষণ করছি শত শত তরুণীকে। আর আমার চোখের সামনেই তুমি নিজেকে নগ্ন করে চলেছো প্রতি মুহূর্তে। একটা মজার ব্যাপার কী তুমি লক্ষ্য করেছো,এই চক্রে আমি নিজেই পন্য আবার নিজেই ভোক্তা।

প্রিয়তমা, আমি কী খুব বেশি অসংলগ্ন কথা বলে ফেলছি? আমরা কেউ স্থির হতে পারছিনা। ছুটে চলেছি। কিন্তু কেন, কিসের জন্য তা আমরা নিজেরাও জানিনা। এই অস্থিরতা কার সৃষ্টি? তোমার? আমার? নাকি এই সময়ের?

Love for the God through music

Music is the most ancient form of art. In fact, everything is  from music. The Universe is created from a “BANG.” And now in our daily life we are just practicing nothing but music. In an ancient Maya religion, the God was shown as Music.

As it is my first blog, I do not want to prolong my topic. We will do so soon. I expect your co-operation.

Thank you.